অ্যাসিডিটির ঝামেলা? জীবন বদলে দিন এই ৫টি নিয়মে!

 পেট ফাঁপা, বুক জ্বালা, ঢেঁকুর, অস্বস্তি—প্রতিদিন গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণায় আপনি বিরক্ত?ডাক্তারের কাছে যাওয়া, ওষুধ খাওয়া—সবই করছেন, কিন্তু কোনই কাজই হচ্ছে না? আসলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা শুধু খাওয়ার ভুলেই নয়, আমাদের জীবনের কিছু অভ্যাসের জন্যেও হয়!

আর আজকের আলোচনাতে আমরা জানব ঠিক এমন ৫টি সহজ অভ্যাস,
যা নিয়মিত করলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যাকে বলা যাবে 'গুডবাই'!"

"পেট ফাঁপা, বুক জ্বালা, ঢেঁকুর, অস্বস্তি এই গুলি থেকে মুক্তি পেতে চান ? তাহলে চলুন, বদলে ফেলি কিছু পুরনো অভ্যাস—আর ফিরিয়ে আনি আরামদায়ক হজমের স্বস্তি!"

১. নিয়মে বাঁধা জীবন হচ্ছে – অ্যাসিডিটি কমানোর প্রথম ধাপ!

"অনেক সময় রাতে দেরি করে ঘুমালে মাঝরাতে খিদে পায়, আর তখনই আমরা খেয়ে ফেলি কিছু অস্বাস্থ্যকর –খাবার এরপরে যাই ঘুমাতে, আর তারপরেই শুরু হয় অ্যাসিডিটির সমস্যা!"

তাই রাত জাগবেন না।
নিয়ম করে ঘুমাতে যাবেন এবং সময়মতো ঘুম থেকে উঠবেন ।
সকালের নাশতা বাদ দেবেন না – কারণ এটা হজম প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মানসিক চাপ থাকলে আপনার অ্যাসিডিটি বেড়ে যেতে পারে।
তাই যোগব্যায়াম, মেডিটেশন আর কিছু হালকা ব্যায়াম করে মন শান্ত রাখুন।


নিয়মিত শরীরচর্চা হজমে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
আর ওজন কম থাকলে অ্যাসিডিটিও থাকে নিয়ন্ত্রণে। তাই নিয়মিত শরীর চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন ।

২.  সাবধান! কখনোই খেয়েই শুয়ে পড়বেন না

খাওয়ার পর পরই শুয়ে পড়লে আপনার অ্যাসিডিটি বাড়তে পারে । তাই চেষ্টা করুন, ঘুমানোর কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করতে। ভারী ব্যায়াম করতে চাইলে খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে করবেন । তবে খাওয়ার পর হালকা ১০ মিনিট হাটতে পারেন । হাঁটলে দারুণ উপকার পাবেন।

৩. যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন?

তেল-মশলা, ভাজাপোড়া খাবার যদিও এগুলো মুখরোচক, এগুলো খেতে যাবেন না – এগুলো অ্যাসিডিটির প্রধান শত্রু।
টক ফল বা খালি পেটে লেবুপানি খাওয়া থেকেও আপনার সমস্যা বাড়তে পারে । তাই টক ফল বা খালি পেটে লেবুপানি না  খাওয়াই ভালো

পেঁয়াজ, রসুন, চা, কফি, চকলেট, কোমল পানীয় –
সবাইয়ের না হলেও, অনেকের ক্ষেত্রেই এগুলো অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে তোলে। তাই এগুলো খেতে যাবেন না ।

কেউ কেউ দুধ খেলেও সমস্যায় পড়েন।
এমনকি অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবারও কিছু মানুষের অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।

কাজেই আপনার নিজের শরীরকে বুঝে  তারপর খাবার বেছে নিন।

৪. খাবার আর পানীয় – কখন খাবেন, জানেন?

অনেকেই খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পানি খান এটা ঠিক না – এটা অ্যাসিডিটির বড় কারণ
চেষ্টা করুন, খাবারের ১৫-২০ মিনিট আগে বা পরে পানি বা যেকোনো পানীয় খেতে।

পানি, উদ্ভিজ্জ দুধ বা পানসে ফলের রস আমাদের অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে –
তবে এগুলি ঠিক সময়মতো খেতে হবে।

খাওয়ার ২০ মিনিট পরে এক কাপ আদা চা বা ক্যামোমিল চা খেতে পারেন । এগুলো খেলে আপনি ভালো উপকার পেতে পারেন ।

৫. ধীরে ধীরে, ভালোভাবে চিবিয়ে খান

আমরা অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকি, যেটা মোটেও ভালো অভ্যাস নয় । অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে পেটে গ্যাস তৈরি হয়, বাড়ে অ্যাসিডিটি।

অনেকেই আবার একবারে বেশি খেয়ে ফেলি, না সেটাও করতে যাবেন না । একবারে বেশি খাবেন না। পেটের কিছুটা অংশ খালি রেখে তবেই খাবেন।

আর হ্যাঁ  খাওয়ার সময় মনোযোগ দিন, ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান।
যেকোন ধরনের পানীয়ও ধীরে ধীরে পান করুন। কোন ক্রমেই তাড়াহুড়ো করতে যাবেন না । কারণ তাড়াহুড়া মানেই বিপদ।

"এই ৫টি অভ্যাস যদি আপনি নিয়মিত অনুসরণ করেন, অ্যাসিডিটির যন্ত্রণা অনেকটাই কমে যাবে – আর হজমও হবে ঝামেলামুক্ত!"- ইনশাল্লাহ 

নিয়মিত হাটুন সুস্থ থাকুন । তো আজ এ পর্যন্তই ।  আলাহ হাফেজ ।

No comments

Powered by Blogger.