ডিম কীভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার
দর্শক ডিম, হ্যা ডিম নিয়েই আমাদের আজকের আলাপ । আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজন এমন কোন পুষ্টিগুণ নাই, যা ডিমের মধ্যে পাওয়া যায় না । সহজ কথায় আমাদের শরীরের জন্য যে পুষ্টিগুণ দরকার সেগুলো সব পাওয়া যায় ডিমে । আর এ জন্যেই ডিমকে আদর্শ খাবার বা সুপার ফুড বলা হয় থাকে । আমাদের সারা দিনের পুষ্টি উপাদানের চাহিদার জন্য, ডিমের বিকল্প, নেই বললেই চলে । কারণ, আগেই বলেছি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, প্রায় সব পুষ্টিগুণ, ডিমের মধ্যে পাওয়া যায় খুব সহজে। একটা ডিম থেকে আমরা স্বাভাবিকভাবে ১৫৫ থেকে ১৬০ কিলোক্যালরি শক্তি পেয়ে থাকি । ডিমে আমরা প্রোটিন, চর্বি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি, ফোলেট, কোলিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, লেটিইনের মতো উপাদান পেয়ে থাকি । কিন্তু এই ডিম কিভাবে খেলে আমরা এর সেরাটা পাবো অর্থাৎ এই ডিম কিভাবে খেলে আমরা বেশি উপকার পাবো সেটা নিয়েই আমাদের আজকের আলাপ ।
আচ্ছা কোন ডিমে পুষ্টি বেশি?
বাজারে লাল ডিমের দাম কিছুটা বেশি আর এ কারণেই বেশির ভাগ মানুষ ভাবেন, লাল ডিমে হয়তো পুষ্টিগুণ বেশি থাকে । আদতে ব্যাপারটা তা নয়। লাল হোক আর সাদা উভয় ডিমেই পুষ্টিগুণ প্রায় সমান থাকে । দামের পার্থক্যটা গড়ে ওঠে মূলত ডিম দেওয়া মুরগির লালন–পালনের খরচের ওপর নির্ভর করে, পুষ্টিগুণের ওপর নয়।
একটি ডিমে আমরা যেসব উপাদান যে পরিমাণে পেতে পারি
চর্বি: ৪ দশমিক ৮ গ্রাম
কোলেস্টেরল: ১৮৬ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম: ৭১ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম: ৬৯ মিলিগ্রাম
প্রোটিন: ৬ দশমিক ৩ গ্রাম
ক্যালসিয়াম: ২৮ মিলিগ্রাম
আয়রন: শূন্য দশমিক ৯ মিলিগ্রাম
ডিটামিন ডি: ১ মাইক্রোগ্রাম
কার্বোহাইড্রেট: শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম
এ ছাড়াও বিশেষ করে মুরগির ডিমে ওমেগা–৩ ফ্যাটি এসিড বিদ্যমান । আর এই ওমেগা–৩–যুক্ত ডিমে উপকারী চর্বি বেশি থাকে । এ জন্য হৃদ্রোগ, কোলেস্টরল ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই ওমেগা–৩–যুক্ত ডিম বেশ ভালো।
এখন আসুন এই ডিম কীভাবে খেলে আমরা পুষ্টিগুণ ভালো পাবো
১ । সেদ্ধ ডিম: ডিম থেকে সবচেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ পেতে চাইলে ডিম সেদ্ধ করেই খান। এই সেদ্ধডিমে ক্যালরি থাকে সবচেয়ে বেশি এবং সব পুষ্টিগুণ থাকে অটুট। তবে আধা সেদ্ধ ডিম শরীরের জন্য অনেক সময় হতে পারে মারাত্মক ক্ষতিকর। আধা সেদ্ধডিম খেলে অনেকের বমি ও ডায়রিয়া শুরু হতে পারে । তাই ডিম পুরো সেদ্ধকরে খাওয়াই উত্তম ।
২ । ভাজি কিংবা পোচ: ডিম ভাজি বা পোচও কিছুটা ভালো, তবে তা সেদ্ধ ডিমের মতো অত ভালো নয়। আর পোচে কুসুম প্রায় কাঁচাই থেকে যায়। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে তেলের ব্যবহার যেন সীমিত থাকে। তবে ভালো হয় যদি আপনি ওয়াটার পোচ করে খান । এতে তেল কম থাকে ।
৩ । কাঁচা ডিম: আমরা অনেকেই মনে করি কাঁচা ডিম খেলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়, তবে বাস্তবে এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। বরং কাঁচা ডিমে এভিডিন নামক একধরনের প্রোটিন থাকে, যেটা আমাদের শরীরে বায়োটিনকে কাজ করতে বাধা দেয়। সে কারণেই ত্বক ও চুলের ক্ষতি হতে পারে যদি আমরা কাঁচা ডিম খাই ।
ডিমের কুসুম খাবেন নাকি ফেলে দেবেন
ডিমের কুসুম খাবেন নাকি খাবেন না এ নিয়ে বিতর্ক আছে । তবে সাম্প্রতিক গবেষণার তত্ত্ব মতে, সেদ্ধ ডিমের কুসুমের কোলেস্টেরল আমাদের দেহের জন্য খারাপ নয়, বরং সেটা আমাদের দেহের প্রতিদিনের কোলেস্টেরলের যে চাহিদা সেটা পূরণে বেশ সহযোগিতা করে ।
দর্শক আশা করি ডিম কিভাবে খাবো সে ধারণা পেয়ে গেলাম । তো আজ এ পর্যন্তই । কথা হবে পরের কোন এপিসোডে । আল্লাহ হাফেজ ।
Post a Comment