ধ‌নেপাতার এই ৭ উপকা‌রিতার কথা জা‌ন‌তেন

সুগন্ধি ধনেপাতা আমরা বিভিন্ন প্রকার রান্নায় বা মুরি ভর্তায় বেশ মজা করে খাই । কিন্তু এসবের বাইরে ধনে পাতার প্রচুর ওষধি গুণবলী বা স্বাস্থ্য উপকারীতাও আছে । ধনে পাতা আমাদের হৃদরোগে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এবং প্রদাহ কমাতে বেশ কাজ করে । এতে বিদ্যমান এসেনসিয়াল ওয়েল এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যেটা আমাদের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে রক্ষা করা । গবেষণা বলছে, ধনে পাতা মৃগীরোগের খিঁচুনি এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে । এগুলোর বাইরেও ধনে পাতায় আছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, আয়রন এবং ভিটামিন । আজকে আমরা ধনে পাতার উপকারীতা গুলো নিয়ে আলাপ করবো । তো চলুন শুরু করা যাকঃ
 

১. প্রদাহ রোধ করে

ধনেপাতা শুধু আমাদের রান্নাবান্নায় ব্যবহার হয় না এটি ছাড়াও মে‌ডি‌সিনের বিকল্প হিসেবেও আমরা ব্যবহার করে থাকি । ধ‌নেপাতা পাওয়া যায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যেমন এসেনশিয়াল লিপিড ও লিনালুল তেল। গবেষণার প্রাপ্ত ফলে পাওয়া যায়, লিনালুল তেল আমাদের ব্যথা কমাতে পারে এবং এটি অতিরিক্ত সক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে অবদান রাখে । এগুলো ছাড়াও ধ‌নেপাতা মৃগীরোগ, বিষণ্ন‌তা এবং প্রদাহ রোধ করতে সাহায্য করে ।


২. থাইরয়েডের ভারসাম্য বজায় রাখে

হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম— নামে আমাদের দেহে দুটিই থাইরয়েডের সমস্যা আছে । এই থাইরয়েড গ্রন্থি থাকে আমাদের গলার সামনের দিকে । যেটা থেকে আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসৃত হয় । তবে যদি হরমোন নিঃসরণে ভারসাম্য না থাকে তাহলে হাইপারথাইরয়েডিজম বা হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দিতে পারে । ধ‌নেপাতা আমাদের এই থাইর‌য়ে‌ডের ভারসাম‌্য রক্ষা ক‌রে। এ ছাড়াও অত্যধিক গরম অনুভূত হওয়া, হট ফ্ল্যাশ, রাতে অতিরিক্ত ঘাম এবং পিত্তজনিত বিভিন্ন সমস্যাও দূর করতে শায্য করে এই ধনেপাতার রস।


৩. খিঁচুনি প্রতিরোধ করে

গবেষণা থেকে পাওয়া যায়, ধনেপাতা একটি নির্দিষ্ট পটাশিয়াম চ্যানেলকে এক্টিভ করে, যাকে কেসিএনকিউ চ্যানেল বলা হয়ে থাকে । কেসিএনকিউ চ্যানেল হলো কার্ডিয়াক এবং নিউরোনাল উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের মতো বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কা‌জে জড়িত একধরনের চ্যানেল। ধনেপাতা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃগীরোগের খিঁচুনি কমাতে সাহায্য করে ।


৪. রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস কমায়

ধ‌নেপাতা আমাদের প্রদাহরোধ করে এবং ব্যথাও উপশম করে। এটি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস কমাতে সহায়তা করে থাকে । যে আর্থ্রাইটিস হার্ট, ফুসফুস, ত্বক এমনকি রক্তনালিকেও ক্ষ‌তিগ্রস্ত করতে পারে ।


৫. চক্ষূরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

ধ‌নেপাতায় থাকে বিটা-ক্যারোটিন ও লুটিন, যেগু‌লো অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ থাকে । ধনে পাতা আমাদের অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে এর চমৎকার একটি উৎস । আমাদের দেহে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে যেমন থাকে তেমনি ফ্রি র‌্যাডিকেলও থাকে । যে ফ্রি র‌্যাডিকেল আমাদের  দেহকোষের ক্ষ‌তি ক‌রে। শুধু তাই নয়  ফ্রি র‌্যাডিকেল ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগও সৃষ্টি করতে পারে । ধ‌নেপাতায় থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট এই ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলকে ধ্বংশ করে আমাদের দেহ কোষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় । গবেষণা থেকে পাওয়া যায়, ধ‌নেপাতার র‌সে ধ‌নেবীজের চেয়ে বেশি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট বিদ্যমান । ধ‌নেপাতা  বে‌শি বে‌শি খেলে চক্ষূরোগ এবং কিছু কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে ।


৬. মন–মেজাজ ভা‌লো রাখে

আমরা অনেক সময় টেনশন বা উদ্বেগ ফিল করলে সেটা থেকে মুক্তি পাবার জন্য ওষু‌ধ খাই। কিন্তু ধ‌নেপাতার রস খে‌লেও আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি । কারণ, এই নির্যাস পেশি শিথিল বা রিল্যাক্স ক‌রে। যার ফ‌লে  আমাদের মন–মেজাজ ভা‌লো হ‌য়ে যায় ।


৭. ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে

আমাদের অগ্ন্যাশয় যখন ইনসুলিন তৈরি করতে পারেনা বা শরীরে উৎপা‌দিত ইনসুলিন যথাযত ব্যবহার করতে পারে তখন আমরা একে বলে থাকি ডায়াবেটিস। এর কারণে আমাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় । গবেষণার প্রাপ্ত ফলে পাওয়া যায়, ধনেপাতা আমাদের দেহে ইনসুলিন প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে । অর্থাৎ ধনে পাতা আমাদের হাইপারগ্লাইসিমিয়া কমা‌তে ভুমিকা রাখতে পারে ।

তো আজ এ পর্যন্তই । কথা হবে পরের কোনো এপিসোডে । আশা করছি আজকের লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে । যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে একটা লাইক দিয়ে শেয়ার করে সবাইকে পড়ার সুযোগ করে দিবেন । আল্লাহ সকল অবস্থায় আমাদের সহায় হোক-আমিন ।





No comments

Powered by Blogger.