শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কী করবেন
সম্মানিত সুধি, আজকে শিশুদের কমন একটি সমস্যা নিয়ে আলাপ করবো । আশা করছি অন্যদিনের মতো আজও আমাদের সাথেই থাকবেন । আমরা প্রায়ই শিশুদের নিয়মিত পায়খানা হয় না -এমন একটা সমস্যা ফেস করি, মুলত এই সমস্যাটি নিয়েই আজকের আলাপ । অনেক সময় পায়খানা যদিও নিয়মিত হয় তবে সেটা হয় অনেকটা কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের মতো । যার ফলে শিশুরা পায়খানা করতে কষ্ট পায় । তবে এই সমস্যা সাধারণত দুই থেকে তিন বছরের শিশুদের মধ্যে বেশী দেখা যায় । এর মুল কারণ বলা হয়ে যাকে শিশুদের নতুন টয়লেট করতে শেখা এবং খাদ্যভ্যাসে পরিবর্তন । অনেক সময় নতুন পরিবেশ যেমন নতুন শিশুর আগমন, নতুন স্কুলে যাওয়া ইত্যাদি কারণেও এই সমস্যা হতে পারে । এ ছাড়াও থাইরয়েড হরমোন এবং জন্মগত কিছু রোগের কারণেও এমনটি হতে পারে ।
এখন এই সমস্যা হলে আমরা কিভাবে বুঝবো ঃ
১ । শিশু সপ্তাহে তিনবার বা এর চেয়ে কম মলত্যাগ করবে ।
২ । শিশুর মল অতিরিক্ত কঠিন হলে, শিশু মলত্যাগের সময় কষ্ট পাবে এবং কাদবে ।
৩ । শিশু মলত্যাগের সময় ব্যথা পাবে ।
৪ । শিশুর মলের সঙ্গে ব্লিডিং হতে পারে ।
৫ । শিশু পেটে ব্যথা পেতে পারে ।
৬ । শিশুর প্যান্টে কিঞ্চিত মল লেগে থাকতে পারে ।
৭ । শিশুর মল ত্যাগে অনিহা থাকতে পারে ।
৮ । মল ত্যাগের সময় শিশুর মুখ কুঁচকানো অবস্থায় দেখা যেতে পারে।
৯ । শিশুর মলদ্বার ফেটে যেতে পারে, মলদ্বারে চুলকানি এবং দীর্ঘমেয়েদি ক্ষতও দেখা যেতে পারে ।
১০ । শিশুর মলত্যাগের স্বাভাবিক অবস্থা বিনষ্ট হয়ে অন্ত্রের জটিল কোনো সমস্যা হতে পারে ।
১১ । এ ছাড়াও শিশুর অরুচি, প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব এবং শারীরিক -মানসিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটতে পারে ।
তো এই অবস্থায় আমাদের করণীয় কিঃ
১ । শিশুর খাদ্যাভ্যাসে কিছু রদবদল আনতে হবে। যেমন আঁশযুক্ত খাবার, ফল ও শাকসবজি বেশি করে খেতে দিতে হবে এবং সেই সাথে প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে।
২ । প্রক্রিয়াজাত খাবার, শুকনো ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে ।
৩ । শিশুর মলত্যাগের একটা নিয়মিত অভ্যাস বানিয়ে নিতে হবে । অর্থাৎ প্রত্যেক দিন একই সময় টয়লেট করার অভ্যাস তৈরী করতে হবে । এ জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার মিনিট দশেকের মতো টয়লেটে বসার অভ্যাস বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে ।
৪ । প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে মল নরমের জন্য লাক্সাটিভ–জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে পারেন ।
৫ । আপনার শিশুকে মানসিক চাপমুক্ত রাখতে হবে এবং সেই সাথে শিশুর স্কুলে নিয়মিত টয়লেট ব্যবহারের মতো পরিবেশ যাতে পর্যাপ্ত পায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে ।
এই শিশুর জন্য কখন আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবেঃ
১ । যদি শিশু খেতে না পারে ।
২ । যদি শিশুর জ্বর থাকে ।
৩ পায়খানার সাথে রক্ত যায় ।
৪ । যদি পেট ফুলে যায় ।
৫ । যদি আপনার শিশুর ওজন কমে যায় ।
৬ । এবং যদি আপনার শিশুর পেটে তীব্র ব্যথা হয় ।
এই সমস্যা গুলো ফেস করলে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন । তো এই ছিলো আজকের মতো ।
আশা করছি লেখাটা আপনাদের ভালো লেগেছে । যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে একটা লাইক দিয়ে শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিবেন ।আল্লাহ সকল অবস্থায় আমাদের সহায় হোক-আমিন ।
Post a Comment